Satellite
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিশ্ব ও বাংলাদেশ প্রেক্ষিত
বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট হতে যে সকল সুবিধা পাওয়া যাবে।
প্রাথমিকভাবে ৪০ ধরনের সেবা নিশ্চিত করে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটকে মহাকাশে প্রেরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ৩ ধরনের সুবিধা নিয়ে নিচে আলোচনা করা হলো। যথা-
১. টেলিভিশন চ্যানেলগুলো তাদের সম্প্রচার কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়ে স্যাটেলাইট ভাড়া করে থাকে। বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট ব্যবহারের মাধ্যমে তথা Direct to Home (DTH) ডিশ সার্ভিস চালু করে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা সম্ভব হবে। তথা মাল্টিপ্লেক্স ডিজিটাল টেলিভিশন, রেডিও এবং এতদসংক্রান্ত ডেটার সমন্বয়ে গঠিত সিগন্যাল সরাসরি স্যাটেলাইট হতে ব্যবহারকারীর অতি ক্ষুদ্র অ্যান্টেনায় প্রেরিত হবে। অর্থাৎ তার ছাড়াই ঘরে বসে স্যাটেলাইট টেলিভিশন দেখা যাবে।
২. বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের ১৬০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডউইডথ ব্যবহার করে ইন্টারনেট সুবিধা বঞ্চিত অঞ্চল যেমন পার্বত্য ও হাওর এলাকা, প্রত্যন্ত অঞ্চলে- ইন্টারনেট, অনলাইন ব্যাংকিং, টেলিমেডিসিন, দূরনিয়ন্ত্রিত শিক্ষা কার্যক্রমসহ নানাবিধ সেবা প্রদান সম্ভব হবে, যা VSAT Private Networks এর আওতায় পড়বে।
৩. যে কোনো বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সচরাচর মোবাইল নেটওয়ার্ক বিকল হয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সার্বিক যোগাযোগব্যবস্থা চালু রাখা সম্ভব হবে। উপরোক্ত বিষয়গুলো ছাড়াও নিম্নলিখিত ক্ষেত্রগুলোতে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট ব্যবহৃত হবে-
• মহাকাশ ও জ্যোতির্বিজ্ঞান গবেষণায়
• আবহাওয়ার পূর্বাভাসে
• নেভিগেশন বা জাহাজের ক্ষেত্রে দিকনির্দেশনায়
• পরিদর্শন পরিক্রমায় (সামরিক ক্ষেত্রে শত্রুর অবস্থান জানার জন্য)
• মাটি বা পানির নিচে অনুসন্ধান ও উদ্ধার কাজে
• ছবি তোলার কাজে
• গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম বা জিপিএস নির্ণয়ে
• গামা রশ্মি বিচ্ছুরণ নির্ণয়ে
• পারমাণবিক বিস্ফোরণের আগাম সতর্কবার্তা পেতে
• তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ও বিভিন্ন খনির সন্ধান পেতে
• সমুদ্রসীমার নজরদারিতে
• ডিজিটাল ম্যাপ তৈরিতে ইত্যাদি।
সব ধরনের কারিগরি পরীক্ষা শেষে গত নভেম্বর ০৯, ২০১৮ তারিখে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেসের কাছ থেকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বুঝে নেয় বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড। বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের থ্যালেস অ্যালেনিয়ার প্রোগ্রাম ম্যানেজার ছিল জিল ওবাদিয়া।

No comments